I think ... - personal developmenthttps://blog.kmonsoor.com/2025-02-12T00:00:00+06:00সহজ বাংলায় Locus of Control2025-02-12T00:00:00+06:002025-02-12T00:00:00+06:00Khaled Monsoortag:blog.kmonsoor.com,2025-02-12:/sohoz-banglay-locus-of-control/<p>Locus of control … এই একটা বিষয় একটু জটিল হলেও যদি একবার বুঝতে পারেন, তাহলে ঘুরে যেতে পারে আপনার জীবনের মোড় …</p><hr>
<p>ধরেন, আপনি অপারেশন থিয়েটারের বিছানায় শুয়ে আছেন। আপনার কোন একটা অপারেশন করবে। সার্জন আছে, সব কিছুর ব্যবস্থা আছে, কিন্তু আপনাকে ঔষধ দিয়ে অজ্ঞানের মতো করে রাখা হয়েছে; সারা শরীর অবশ।
এই মুহূর্তে আপনার কি করার আছে?
মনে মনে দোয়া করা ছাড়া আর কিছুই করার নাই। এই সিচুয়েশন টা ধরেন, এক্সটার্নাল লোকাস অফ কন্ট্রোল, নিয়ন্ত্রণ নিজ ক্ষমতার একেবারে বাইরে। যখন পুরা সিচুয়েশন আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে; এমন কি আপনি চিৎকারও দিতে পারবেন না।
এমন আরো কিছু সিচুয়েশন বলি যেটা বেসিক্যালি আপনার কিছুই করার নাই যেমন, আপনার স্কিনের কালার, প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় আপনার উচ্চতা, আপনার বাবা-মা, জন্মভূমি … এগুলা পূর্বনির্ধারিত আপনার কিছুই করার নাই। </p>
<p>অন্যদিকে ধরেন, ডাক্তার বলছে আপনার একটা অপারেশন প্রয়োজন। এখন আপনি চাইলে এদিক-ওদিক থেকে টাকা পয়সা জোগাড় করতে পারেন, চেষ্টা করলে বিদেশে অপারেশন করতে যেতে পারেন, চেষ্টা করলে নামিদামি সার্জন ম্যানেজ করতে পারেন, অনেক কিছুই করতে পারেন, তো এই ক্ষেত্রে “লোকাস অফ কন্ট্রোল” ইন্টারনাল, মানে নিয়ন্ত্রণের ভিতরে। কিন্তু, একবার ওটির বিছানায় অজ্ঞান হয়ে গেলে এক্সটার্নাল। </p>
<p>…</p>
<p>এবার কাজের কথায় আসি। আপনি যদি মনে করেন আমি যেই সিচুয়েশনে আছি, এক্ষেত্রে আমার কিছুই করার নাই, তাহলে আপনার এই সিচুয়েশনে আপনাকে হাজার লোকেও কোন সাহায্য করতে পারবে না। কারণ আপনার মনের অন্তস্থলে আছে “আমার কিছুই করার নাই”।</p>
<p>অন্যদিকে, যত টাইট অবস্থায় হোক না কেন, আপনার মনে যদি থাকে আমি তো চেষ্টা করতে পারি, আমি চেষ্টা করতে থাকবো। তাহলে একটা না একটা রাস্তা খুলে যাবেই, হয়তো প্রথমটা খুলবে না, হয়তো দ্বিতীয় টা খুলবে না, হয়তো সাত নম্বর টা খুলবে। </p>
<p>আপনি যদি ধর্মে বিশ্বাসী হন তাহলে বলবো আপনার চেষ্টায় আপনার সৃষ্টিকর্তা আপনার জন্য পথ খুলে দিবে।
আর যদি ধর্মে বিশ্বাসী না হন karma তে বিশ্বাসী হন, তাহলে মনে রাখবেন আপনি বিশ্বজগতে যেই ভাবতরঙ্গ ছড়াচ্ছেন, বিশ্বজগৎ আপনাকে সেটাই বেশি করে ফেরত দিবে। সারাদিন নেগেটিভ কথা বলবেন, নেগেটিভ চিন্তা করবেন, দেখবেন আপনার নেগেটিভ ছাড়া পজেটিভ কিছু আসবে না। মা-বাবা নেগেটিভ হয়ে যাবে, বন্ধুরা নেগেটিভ হয়ে যাবে, ভাই বোনেরা নেগেটিভ হয়ে যাবে, বাকিদের টাও বুঝে নেন। </p>
<p>ইসলাম ধর্ম থেকে উদাহরণ দিলে ইউনুস(আঃ) নবীর কথা চিন্তা করেন। একটা বিশাল মাছে গিলে ফেলেছে, কিছুক্ষণের মধ্যে মাছের পেটে হজম হয়ে যাবে, ঘুটঘুটে অন্ধকার, অসম্ভব দুর্গন্ধ মাছের পেটে।
অথচ উনি বিশ্বাস করছিলেন, এখনো কিছু করার আছে … উনার সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রাণ মনে দোয়া করেছেন। মানব ইতিহাসে যা কখনো হয়নি তাই হয়েছে, মাছ উনাকে উগড়ে দিয়েছে। </p>
<p>হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে মহানায়ক অর্জুন (বা পার্থ) কে তার সারথি (+মেন্টর) কৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ফাঁকে ফাঁকে জ্ঞান দিতে বলেন …
“কর্মের ফল আমার উপর ছাড়ো। কাজটি আমার ওপর ছেড়ো না। কাজটি এখনো তোমার। যদি তোমার কাজটি আমার উপর ছেড়ে দিতে পারতে, তোমার অস্তিত্বই থাকত না।
আমি নিজেই কাজ করতাম- কেন আমার তোমাকে প্রয়োজন হবে? কর্মের ফল আমার উপর ছেড়ে দাও- কর্মটি তোমার সঙ্গে রাখ।”</p>
<p>ইতিহাস থেকে উদাহরণ দিলে, আমরা সবাই ছোটবেলায় রবার্ট ব্রুসের কথা পড়েছি। একবারের জায়গায় সাতবার সে যুদ্ধ করে তারপরে মাতৃভূমিকে রক্ষা করেছে। কথিত আছে, একটা মাকড়সার বারংবার জাল বোনা দেখে সে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। </p>
<p>কর্ম → “লোকাস অফ কন্ট্রোল” আপনার নিজস্ব … “ইন্টারনাল”।
কর্মের ফলাফল → “লোকাস অফ কন্ট্রোল” আপনার ক্ষমতার বাইরে … “এক্সটারনাল”।</p>
<p>এখন ভেবে দেখেন, আপনি যেখানেই আছেন যেভাবেই আছেন, আপনার জীবন পরিবর্তনের সেই লোকাস কন্ট্রোল কি এক্সটার্নাল ভাববেন?
নাকি, ইন্টারনাল ভেবে মাঠে নামবেন, দৌড়ঝাপ করবেন, চেষ্টা করবেন, দোয়া করবেন, তারপরে আবার চেষ্টা করবেন?</p>
<p>আমি ব্যক্তিগতভাবে “যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ” ✊</p>
<p>❤ #shohozbanglay</p>